আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি আজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি শুরু হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের দশম তলায় স্থাপিত এজলাসে আপিল শুনানি চলছে।

দুপুর পর্যন্ত যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, তাদের মধ্যে পটুয়াখালী-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী গোলাম মাওলা রনিও আছেন। সদ্য আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে নাম লেখানো রনির মনোনয়নপত্র গত ২ ডিসেম্বর ‘হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকার’ কারণ দেখিয়ে বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকেটে সাংসদ নির্বাচিত হওয়া রনির বক্তব্য ছিল, হলফনামায় সই না করাটা ছিল তার ‘সাধারণ ভুল’। এমন ভুলের কারণে অতীতে কখনও কোনো মনোনয়ন বাতিল হয়নি।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে রনির আইনজীবী বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন ফিরিয়ে দিয়েছে কমিশন। এখন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়ার ওপর আমাদের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি নির্ভর করছে।”

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের দণ্ড নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তার নামে এবার ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হওয়ার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা বাতিল করেন।

যারা টিকে গেলেন

পটুয়াখালী-৩: বিএনপির প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল।

বগুড়া-৭: বিএনপির প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন। ওই আসনে তিনি খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদতাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল।

ঢাকা-১: বিএনপির খন্দকার আবু আশফাক। চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদতাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

ঢাকা-২০: বিএনপির তমিজ উদ্দিন। চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদতাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

জামালপুর-৪: ফরিদুল কবির তালুকদার। চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদতাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

কিশোরগঞ্জ-২: বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল খেলাপী ঋণের জামিনদার হিসেবে ঋণ খেলাপী হওয়ায়।

ঝিনাইদহ-২: বিএনপির আব্দুল মজিদ। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদতাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল।

পটুয়াখালী-১: ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. সুমন সন্যামত। আয়কর রিটার্নের কপি না দেওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল।

পটুয়াখালী-৩: বিএনপির মোহাম্মদ শাহজাহান। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল ঋণখেলাপের অভিযোগে।

মাদারীপুর-১: জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মিন্টু। অসম্পূর্ণ ফরম জমা দেওয়ায় এবং স্বাক্ষর ঠিকমত না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল।

সিলেট-৩: বিএনপির প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। মূল হলফনামায় স্বাক্ষর ছিল না।

জয়পুরহাট-১: বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুর রহমান। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদতাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

পাবনা-৩: বিএনপির প্রার্থী মো. হাসাদুল ইসলাম। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদতাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

মানিকগঞ্জ-২: উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদতাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

সিরাজগঞ্জ-৩: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আয়নুল হক। মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল বিল খেলাপি হওয়ায়।

গাজীপুর-২: জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়নাল আবেদীন। হলফনামায় মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপনের কারণ দেখিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: জাতীয় পার্টির প্রার্থী জেসমীন নূর বেবী। হলফনামা নোটারি না করায় এবং ২০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প অথবা সমপরিমাণ কোর্ট ফি না দেওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩: জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল হেলাল। মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল পৌর কর পরিশোধ না করার কারণে।

রংপুর-৪: জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা সেলিম। আরপিওর ব্যত্যয় ঘটানোর কারণ দেখিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

হবিগঞ্জ-১: বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী জোবায়ের আহমেদ। মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল হলফনামায় সই না থাকায়।

ময়মনসিংহ-২: স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবু বকর সিদ্দিক। মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল ঋণ খেলাপির অভিযোগে।  

ময়মনসিংহ-৭: বিএনপির প্রার্থী জয়নাল আবেদিন। বাতিলের কারণ জানা যায়নি।  

কুড়িগ্রাম-৩: বিএনপির প্রার্থী আব্দুল খালেক। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল ঋণ খেলাপির অভিযোগে।

কুড়িগ্রাম-৪: গণফোরামের মো. মাহফুজুর রহমান। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল ঋণ খেলাপির অভিযোগে।

কুড়িগ্রাম-৪: স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুছ আলী। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকায়।

পঞ্চগড়-২: বিএনপির প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। 

About Benapole Pratidin

Check Also

জাতীয় পার্টির ১৮ দফা ইশতেহার: ‘গণতন্ত্রের বিকাশ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা’

জাতীয় পার্টির ১৮ দফা ইশতেহার: ‘গণতন্ত্রের বিকাশ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা’

১৮ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। শুক্রবার (১৪ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় জাপা চেয়ারম্যান …