আলোচনায় অগ্রগতি আছে, সংলাপ অব্যাহত থাকবে: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি আছে, সংলাপ অব্যাহত থাকবে।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে গতকালের সংলাপে কিছু কিছু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।  আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিস্কারভাবে বলে দিয়েছেন, সভা সমাবেশ তথা মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার থাকবে।
সভা সমাবেশে বাধা না দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে ঐক্যফ্রন্টকে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রয়োজনে একটি কর্নার করে দেয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।  শুধুমাত্র ভাড়া দিয়ে এই কর্নার ব্যবহার করা যাবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ১৪ দলের সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।  রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে সংলাপে ড. কামাল হোসেন এবং মির্জা ফখরুলের কাছ থেকে তালিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আশ্বাস দিয়েছেন সেই তালিকা দেখে যেটা রাজনৈতিক মামলা মনে হবে, সেটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও কার্যত নাচক করেছেন প্রধানমন্ত্রী।  
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনকে আমাদের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আপনিই বলুন, আপনিও তো ইলেকশন করেছেন।  স্বাধীনতার পর থেকে বহু নির্বাচনই হয়েছে এই দেশে।  এসব নির্বাচনের মধ্যে কেবলমাত্র ২০০১ সালেই একবার সেনাবাহিনীকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।  এছাড়া কোনো নির্বাচনে বাংলাদেশে সেনাবহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার ছিল না।  কাজেই এখন কেন চান?
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা আইনের ব্যাপার, আদালতের বিষয়।  আইন আদালতের বিষয় সংলাপের মধ্যে আসতে পারে না।  ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা মুক্তি চেয়েছেন।
কিন্তু এটা আইন আদালতের বিষয়।  আমাদের নেত্রী বলেছেন, যে দুটি মামলায় তার দণ্ড হয়েছে, এবং এটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলা।  সে সরকারের দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা বিএনপির লোক। সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা ছিল।  সেগুলো তদন্ত করে রিপোর্ট হয়েছে, কোনো মামলা প্রত্যাহার হয়নি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইভিএম আধুনিক পদ্ধতি, সাপোর্ট করি।  তবে এবার ইভিএম হয়ত নির্বাচন কমিশন সীমিতভাবে ব্যবহার করবে।  এতে আমাদের সমর্থন থাকবে।  তবে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভোট পর্যবেক্ষণে সকারের কোনো আপত্তি থাকবে না বলে জানান ওবায়দুল কাদের।  
এই আলোচনায় ঐক্যফ্রন্ট সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা খুশি কি অখুশি এটা তারা বলবেন।  হাউ ক্যান আই সে? তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন প্রাইম মিনিস্টারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
তিনি মন্তব্য করেছেন, আপনি যে সব বক্তব্যগুলো দিয়েছেন, তার অনেক কিছু আমি জানতাম না।  ওবায়দুল কাদের বলেন, ছোট পরিসরে বসার ব্যাপারে আমাদের নেত্রী বলেছেন, আমার দ্বার উন্মুক্ত।  আগামী ৮ তারিখ পর্যন্ত আরও কয়েকটি সংলাপ আছে।  তারা এলেই হবে।  তারা যদি মনে করেন আসা দরকার।  আমাদের ইনফরমেশন দিলেই চলবে।  
আরেক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আরও আলোচনা হতে পারে, সেটা ৮ তারিখের পর জানা যাবে।  তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে যে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে, তার অনেকগুলো সংবিধানসিদ্ধ নয়।  তবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টকে আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আলোচনার পথ এখনও খোলা আছে।  
বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সে কথা তাদেরই জিজ্ঞেস করুন।  সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছুই করা হবে না- ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ওবায়দুল কাদের বলেন, অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।  ড. কামাল হোসেনসহ সবার কথা আমাদের নেত্রী মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন।  একজন দুইবার তিনবার চারবার কথা বলেছেন।  তিনি একবারও অধৈর্য হননি।  আমাদের পক্ষ থেকেও আমাদের সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দিয়েছেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না।  একটা ব্যাপার পরিস্কারভাবে বলেছি, ড. কামাল হোসেন সাহেবের চিঠির উত্তরেও একটা কথা লেখা ছিল সেখানে।  বলা ছিল, সংবিধান সম্মত সকল বিষয়ে আলোচিত হবে, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়।  কাজেই উই কেন নট গো বিয়ন্ড দ্য কনস্টিটিউশন।  
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে কাদের বলেন, না, এসব কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি।  আমার মনে হয় প্রাইম মিনিস্টার যেসব যুক্তি দিয়ে কথা বলেছেন, তাদের নেতৃবৃন্দ অনেকেই কনভিনসড হয়েছেন বলে আমরা মনে করি।
সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের দাবি সংলাপে নাকচ হয়েছে।  ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ ভেঙে নির্বাচন হয় না।  আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদাহরণ দেয়া হয়েছে।  আসলে নির্বাচনের সব দায় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।  শিডিউল ঘোষণার পরই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ইলেকশন কমিশনের ওপর ন্যস্ত হবে।  কাজেই এসব বিষয়ে তাদের ভয় কিংবা শঙ্কার কোনো কারণ নেই।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে দিয়েছেন।  নির্বাচন কমিশন কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।  
সরকার হস্তক্ষেপ করবে না।  আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, কিছু কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কিছু কিছু বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।  আমাদের পক্ষ থেকেও জবাব দেওয়া হয়েছে।

About Benapole Pratidin

Check Also

বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম আর নেই

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জনাব তরিকুল ইসলাম রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস …