ঋতুরাজ বসন্ত আজ

ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত।’ ফুল ফোটার পুলকিত এই দিনে বন-বনান্তে, কাননে কাননে পারিজাতের রঙের কোলাহলে ভরে উঠছে চারদিক।

আজ বৃহস্পতিবার। পয়লা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। বিপুল ঐশ্বর্যের অধিকারী ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার দিন।

রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘আজি দখিন-দুয়ার খোলা/ এসো হে, এসো হে, এসো হে আমার বসন্ত এসো…।’ বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ফাল্গুন ও চৈত্র দু’মাস বসন্তকাল।

এ ঋতুতে শীতের শুষ্কতায় বিবর্ণ প্রকৃতি ফিরে পায় প্রাণ। গাছে গাছে দেখা দেয় কচি পাতা। দক্ষিণা হাওয়ায় মাতিয়ে তোলে চারিদিক। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে সব গাছ। কৃষ্ণচূড়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা, মালতী, মাধবী, বকুল, শিমুল, পলাশসহ নানা জাতের ফুল ফোটে। আমের মুকুলের সৌরভে ম ম করে আকাশ বাতাস।

আর এই আগুন লাগা ফাগুনেই গাছে গাছে সুললিত কণ্ঠে প্রিয়াকে ডেকে আকুল হয় কোকিল। বসন্তকে বরণ করার প্রধান অনুষঙ্গ ফুল। পহেলা ফাল্গুনের দিন তরুণীরা চুলে খোপা বেঁধে কেউ বেনী করে ফুলের মালা, ফুল দিয়ে জড়িয়ে ঘুরতে বের হয়।

এজন্য দেশের বৃহত্তম ফুলের বাজার শাহবাগ, কাঁটাবনসহ রাজধানীর ফুলের দোকানগুলোতে ওঠে ব্যবসা।

সব মিলিয়ে অনন্য ঋতু বসন্তকে বরণ করে নিতে প্রতিবছরই বিশেষ প্রস্তুত হয় দেশ। এবারও রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে প্রস্তুতি। বসন্তের প্রথম দিনে আজ নানা আয়োজনে আলোড়িত হবে রাজধানী ঢাকা।

জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্যাপন পরিষদ বরাবরের মতো এবারও বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলার পাশাপাশি এবার পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক ও ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর মুক্ত মঞ্চেও অনুষ্ঠান হবে। বসন্তের প্রকৃতি বর্ণনা ও বন্দনা করা ছাড়াও এসব মঞ্চ থেকে বাঙালির জীবনে বসন্তের প্রভাব নানা ব্যঞ্জনায় ফুটিয়ে তোলা হবে। বকুলতলায় যন্ত্রসংগীতের মূর্ছনায় অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল ৭টায়।

বসন্ত শোভাযাত্রা সকাল ১০টায়। বিকেলে থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অংশ নেবেন দেশের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন ও বিশিষ্ট শিল্পীরা।