কলকাতার মেয়র হলেন ফিরহাদ হাকিম

কলকাতা পুরসভার নতুন মেয়র হলেন পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুরসভার মেয়র হিসাবে ফিরহাদ হাকিম এবং ডেপুটি মেয়র হিসাবে অতীন ঘোষের নাম ঘোষণা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরেই কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন বর্তমান মেয়র শোভন চ্যাটার্জি। নিরাপত্তারক্ষীদের হাত দিয়ে এ দিন নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন কলকাতা পুরসভার চেয়ারপারসন মালা রায়ের কাছে।

এরপর মালা রায় জানান, কলকাতা পুরসভার বর্তমান মেয়র শোভন চ্যাটার্জি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সেই পদত্যাগপত্র গ্রহন করা হয়েছে।

পুরসভার আইন অনুযায়ী মেয়র পদত্যাগ করার একমাসের মধ্যেই নতুন মেয়র নির্বাচন করতে হবে। গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভন চ্যাটার্জিকে মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলার পর থেকেই কে কলকাতার পরবর্তী মেয়র হবেন তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। তবে জল্পনার প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নাম এগিয়ে ছিল।

ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পুরসভার মেয়র হওয়ায় স্বাধীন ভারতে এই প্রথম কলকাতার মেয়র পদে বসছেন একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা। কলকাতা পুরসভার একাধিক পদে অবশ্য এর আগেও ছিলেন ফিরদাহ হাকিম। তবে কলকাতার মেয়র হতে গেলে পুর সংশোধনী নিয়ম বিধানসভায় পাশ করিয়ে নেওয়া হয়। ওই নিয়ম অনুযায়ী, পুরকেন্দ্র থেকে তাঁকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে ফিরহাদ হাকিমকে মেয়র পদে বসানোর ছয় মাসের মধ্যে পুর এলাকা থেকে তাঁকে ভোটে জিতে আসতে হবে।

পারিবারিক ও ব্যাক্তিগত কারণে শোভন চ্যাটার্জি বেশ কিছুদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোষের মুখে পড়েন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘কোনও ভুল বোঝাবুঝি নেই, ও ভালো থাকুক।

আমাদের দল তৃনমূল কংগ্রেস একেবারেই স্বচ্ছ। আমাদের দল তৃনমূল কংগ্রেসের ১২২ জনের মেয়র হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। কিন্ত একটা সিস্টেম আছে। ব্যাক্তিগত কিছু অসুবিধার কারনে ইস্তফা দিয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়।’

শোভন চ্যটার্জি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনেই কাজ করেছি। গতকাল ছুটি ছিল বলে ইস্তফা দিতে পারিনি। আজ পুরসভা খুলতেই ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেই। নতুন মেয়রকে শুভেচ্ছা জানাই।’

ভারত স্বাধীন হওয়ার আগে আবুল কাসেম ফজলুল হক (১৯৩৫- ১৯৩৬), আব্দুর রহমান সিদ্দিকী (১৯৪০- ১৯৪১), সাঈদ বদরুদ্দোজা (১৯৪৩- ১৯৪৪) এবং সাঈদ মোহম্মদ উসমান (১৯৪৬- ১৯৪৭) সাল পর্যন্ত কলকাতার মেয়র হলেও ভারতে স্বাধীনতার পর এই প্রথম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র হলেন।