গুগলকে ৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা

অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় অ্যালফাবেট মালিকানাধীন গুগলকে পাঁচশ কোটি মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ ধরনের মামলায় জরিমানার অংকে এটিই রেকর্ড।

এছাড়া ৯০ দিনের মধ্যে গুগলকে অবৈধ ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। নির্দেশ অমান্য করলে প্রতিষ্ঠানটিকে বাড়তি জরিমানাও গুণতে হতে পারে।

সেক্ষেত্রে অ্যালফাবেটের দৈনিক গড় বৈশ্বিক আয়ের ৫ শতাংশই জরিমানা দিতে হতে পারে বলে সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত বছরই গুগলকে ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার জরিমানা গুণতে হয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে নিজেদের কেনাকেটার সেবায় বাড়তি সুবিধা দেওয়ায়।

এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অনৈতিকভাবে তাদের নিজস্ব সেবাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রোম, সার্চ এবং প্লে স্টোরের মতো গুগল অ্যাপগুলোকে আগে থেকে ইনস্টল করতে বাধ্য করেছে।

স্মার্টফোন নির্মাতাদের গুগল সার্চ প্রি-ইনস্টল করাতে কখনও কখনও তাদেরকে অর্থও দেওয়া হয়েছে বা পরিবর্তিত অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ যাতে ব্যবহার করা না হয় সেজন্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে বলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউ কম্পিটিশন কমিশনার মারগ্রেথ ভেস্টেগার বলেন, “গুগলের ব্যবসায়িক মডেল ডিভাইস প্রস্তুতকারকদের অ্যান্ড্রয়েডের কোনো বিকল্প সংস্করণ ব্যবহার করতে দেয় না, যে সংস্করণটি গুগল ব্যবহার করে না।

“স্মার্টফোন প্রস্তুতকারকরা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে কোন সার্চ বা ব্রাউজার প্রি-ইনস্টল করবে বা কোন অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না গুগল।”

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে গুগল। এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।

এক ব্লগ পোস্টে গুগল প্রধান সুন্দার পিচাই বলেন, কমিশন এই বিষয়টি এড়িয়ে গেছে যে, “অ্যান্ড্রয়েড ফোন আইওএস ফোনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে’।

“এই সিদ্ধান্ত এটি বিচার করেনি যে ফোন নির্মাতা, মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, অ্যাপ ডেভেলপার এবং গ্রাহকদের অ্যান্ড্রয়েড কী সেবা দিয়ে থাকে।”

প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ বান্ডলের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিরোধিতা করেছেন পিচাই। তিনি বলেন, গ্রাহক যদি গুগলের প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ পছন্দ না করেন তবে তারা সহজেই অন্য বিকল্প অ্যাপ ইনস্টল করতে পারেন।

স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনামূল্যে তাদের ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহার করতে দেয় গুগল। কিন্তু গ্রাহক যখন তাদের অ্যাপ ব্যবহার করে তখন বিজ্ঞাপন থেকে আয় করে প্রতিষ্ঠানটি। ডেস্কটপ ডিভাইসের চেয়ে মোবাইল ডিভাইসে গুগলের বিজ্ঞাপনী ব্যবসা বাড়ার হারও বেশি।

গুগলের সার্চ বিজ্ঞাপনী সেবা অ্যাডসেন্স নিয়ে তৃতীয় আরেকটি অ্যান্টিট্রাস্ট মামলা খতিয়ে দেখছে কমিশন।