‘গ’ ইউনিটে ফেল, অথচ ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ রেখেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়। এই ইউনিটে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে যে দুজন শিক্ষার্থী প্রথম হয়েছেন।

এর আগে তাঁরা দুজন যথাক্রমে ‘ক’ (বিজ্ঞান অনুষদ) ও ‘গ’ (ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) ইউনিটের পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন। এ ছাড়া গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর ‘ঘ’ ইউনিটে পাসের হারও অনেক বেড়েছে।

‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর এই শিক্ষার্থীর ফল নিয়ে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘ঘ’ ইউনিটের প্রথম ১০০ জনের তালিকায় থাকা অন্তত ৭০ জন ভর্তিচ্ছু তাদের নিজ নিজ ইউনিটে দেওয়া ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তিতে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নিলেও গত মঙ্গলবার ফল প্রকাশ করেছে।

ফল প্রকাশের পর ‘ঘ’ ইউনিটে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রথম হওয়া জাহিদ হাসান আকাশকে নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।

মাইলস্টোন কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের বাণিজ্য শাখা থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ এই শিক্ষার্থী গত ২০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছেন।

ভর্তি পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের মধ্যে ১১৪ দশমিক ৩০ নম্বর নিয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকায় বাণিজ্য শাখা থেকে প্রথম হয়েছেন তিনি।

‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি বাংলায় পেয়েছেন ৩০ নম্বরের মধ্যে ৩০; আর ইংরেজিতে পেয়েছেন ৩০ নম্বরের মধ্যে ২৭ দশমিক ৩০।

এই জাহিদই এক মাস দুই দিন আগে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধিভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৩৪ দশমিক ৩২ নম্বর পেয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা বাংলায় তিনি পেয়েছিলেন ৩০ নম্বরের মধ্যে ১০ দশমিক ৮; ইংরেজিতে ৩০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছিলেন ২ দশমিক ৪০।

এক মাসের ব্যবধানে জাহিদের এই সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। যেহেতু ‘ঘ’ ইউনিটে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে, সন্দেহের তীর সে দিকেও। 

অন্যদিকে বিজ্ঞান শাখা থেকে ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছেন তাসনিম বিন আলম। তিনি পেয়েছেন ১০৯ দশমিক ৫০ নম্বর। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ফেল করেছিলেন। ১২০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছিলেন ৪৩ দশমিক ৭৫।
এই দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

১২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও বাইরের ৮১টি কেন্দ্রে একযোগে সকাল ১০ টায় ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষার ৭২টি প্রশ্ন পাওয়া যায়। হাতে লেখা ওই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হুবহু মিলে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, তদন্ত কমিটি ডিজিটাল জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দোষী কয়েকজনকে আটকও করেছে৷ জালিয়াতিতে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

About Benapole Pratidin

Check Also

টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করলে বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না

টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করলে বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণরা এবার অংশ নিতে পারবেন না মূল …