চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: মরদেহ বুঝে নিচ্ছেন স্বজনরা

বৃহস্পতিবার  দুপুর ২টার পর থেকে শুরু হয়েছে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া। তবে শনাক্ত করা মরদেহগুলোর হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে আহাজারিরত স্বজনদের।

হাসপাতালে স্থাপিত ঢাকা জেলা প্রশাসনের তথ্যকেন্দ্র থেকে লাশ হস্তান্তরের সার্বিক দায়িত্বে থাকা ঢাকার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সেলিম রেজা বলেন, “বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত আমরা ৩৭টি মরদেহ শনাক্ত এবং এর মধ্যে থেকে ১৫টি হস্তান্তর করেছি।

চকবাজার থানার এসআই প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, সুষ্ঠুভাবে লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের সহায়তায় কাজটি করছে ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।

তথ্যকেন্দ্র থেকে জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ইমরুল হাসান বলেছেন, মরদেহ সমাহিত করার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হচ্ছে। ছবি: রিয়াদুল করিম

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকার কয়েকটি ভবনে লাগা আগুন সকালে নেভানোর পর ৭০টি লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানোর কথা জানায় কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ।

তবে ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ ৬৭টি লাশ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

সংখ্যার গড়মিলের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক তারেক হাসান ভূইয়ার ভাষ্য, তাদের হিসাবে লাশ ৭০টি।

“তবে কয়েকটা ব্যাগে খণ্ড খণ্ড ডেডবডি ছিল। সম্পূর্ণ ডেডবডি হয়ত ৬৭টি হতে পারে।”কয়েকটি লাশ এতটাই পুড়েছে যে চেনার ‍উপায় নেই।

যেসব লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হবে না, সেগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরবর্তীতে স্বজনদের সঙ্গে মিলিয়ে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ।

এছাড়া আগুনে দগ্ধ নয়জনকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬০ শতাংশ দগ্ধ একজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। এর বাইরে আরও নয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।