চৌগাছা হাসপাতালের নানা অনিয়মের তদন্ত শুরু

চৌগাছা প্রতিনিধি:

যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা অনিয়মের তদন্ত শুরু হয়েছে।

গত ৪ জুলাই চৌগাছার ডিভাইন সেন্টারে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিকালে চৌগাছা হাসপাতালের কয়েকজন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন উপজেলার কয়েক ব্যক্তি।

সেসময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও গণশুনানির বিচারক দুদকের কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলিপ কুমার রায়কে এক সপ্তাহের মধ্যে এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

আরও পড়ুন- বেনাপোল পোর্ট থানায় নবাগত ওসি মাসুদ করিমের যোগদান

সে মোতাবেক যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলিপ কুমার রায় ডেপুটি সিভিল সার্জন হারুন অর রশীদ ও যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমদাদুল হক রাজুসহ তিনজনকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি করেন।

কমিটি মঙ্গলবার সকাল দশটা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অভিযোগকারীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার ও লিখিত বক্তব্য নেন।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের একটি মডেল উপজেলা হাসপাতাল হলেও সম্প্রতি হাসাপাতালের নানা বিষয়ে রোগীদের অসন্তোষ বিরাজ করছে।

হসপিটালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সঠিক সময়ে ও নিয়মমত রাউন্ডে না যাওয়া। রোগীদের সাথে কতিপয় ডাক্তারের খারাপ ব্যবহার। হসপিটালে ভর্তিরোগীকে প্রাইভেট চেম্বারে যেতে বাধ্য করা।

ভর্তি রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হতে প্রলুব্ধ করা। নির্ধারিত একটি স্থান থেকে আলট্রাসোনোগ্রাফী এবং একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে প্যাথলজিক্যাল টেস্ট না করলে সেটি না দেখা বা ছুড়ে ফেলে দেয়া।

সব থেকে গুরুতর অভিযোগ হলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আওরঙ্গজেব হসপিটালের ডিউটিকালীন সময়ে হসপিটালের সামনে নিজের চেম্বার ‘বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ রোগী দেখা, হসপিটালে ভর্তি রোগীদের নিজের চেম্বারে দেখাতে বাধ্য করা।

হসপটিালের স্টোরে পর্যাপ্ত স্যালাইন, ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ঔষধ থাকলেও কমিশনের আশায় ভর্তি রোগীদের বাইরে থেকে স্যালাইন ও ঔষধ কিনতে বাধ্য করা।

প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট না থাকা সত্বেও ‘বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ প্যাথলজিক্যাল টেস্ট করাতে বাধ্য করা, নিজের চেম্বার থেকে প্যাথলজিক্যাল টেস্ট না করা হলে হসপিটালে সেই রোগীকে না দেখা, মেডিকেল রি-প্রেজেন্টিটিভদের নিকট থেকে কমিশনের বিনিময়ে ভাল ও পরিচিত কোম্পানীর ঔষধ না লিখে অখ্যাত (আরএসকে এবং অ্যালকো) কোম্পানীর ঔষধ প্রেসকিপশন দেয়া।

শিশু বিশেষজ্ঞ না হয়েও মাত্র ১৫ দিনের একটি প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের নামের সাথে ‘মেডিসিন, মা ও শিশু রোগে অভিজ্ঞ’ বিশেষণ লেখা, হসপিটালে রাউন্ডের বিষয়ে উদাসিন এবং ইচ্ছামত রাউন্ডে যাওয়া, হসপিটাল থেকে ভাগিয়ে যেসব রোগীকে নিজের চেম্বারে দেখেন সেগুলিতে তারিখ না দেওয়া ইত্যাদি।

এছাড়াও তিনি ছয় বছর চৌগাছা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব পালনকালে নিজের গ্রামের বাড়ি উপজেলার বর্ণি- শাহাপুর-পুড়াপাড়া মাঠে বিপুল পরিমান জমি এবং চৌগাছা পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পয়েন্টে জমি ক্রয় করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

হসপিটালের গাইনি বিভাগের ডা. সুব্রত কুমার বাগচির বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ডিউটি সময়ের আধাঘন্টা পূর্বেই হসপিটাল ত্যাগ করে প্রাইভেট ক্লিনিকে যান।

ফার্মাসিস্ট মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি হসপিটালের সরকারি ঔষধ বিক্রি করে দেন এবং হসপিটালের সামনে জমি ক্রয় করে চারতলা বাড়ি করেছেন।

এছাড়া চৌগাছার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে দশটি নলকূপ স্থাপনের জন্য ২০১৪ সালে অর্থ বরাদ্দ করা হলেও সেগুলির একটিও স্থাপন করা হয়নি। তদন্ত কমিটি অভিযোগ গুলির বিষয়ে অভিযোগকারীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য শোনেন এবং অভিযোগকারীদের লিখিত বক্তব্য ও তথ্য প্রমাণাদি নেন।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমরা অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের লিখিত বক্তব্য নেয়া হবে এবং তদন্ত রিপোর্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন ‘বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ কর্মরতদের প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট না থাকলে সেটিকে বন্ধ করে দেয়া হবে। হসপিটালে ডিউটি চলাকালিন কোন চিকিৎসক চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন না।