‘রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর দায়িত্ব মিয়ানমারের’- অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফিরতে পারে, সেই পরিস্থিতি তৈরির দায়িত্ব মিয়ানমারের বলে মত জানিয়েছেন তিনি।

দুই দিনে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ঘুরে, তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি এই মত জানানোর পাশাপাশি নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূয়শী প্রশংসা করেন।

ঢাকায় ফেরার আগের দিন মঙ্গলবার বিকালে উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

নিপীড়নের মুখে ২০১৭ সালের পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তার আগে থেকে এখানে আছে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে মিয়ানমার এই শরণার্থীদের নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে ভয় পাচ্ছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা বলছে, রোহিঙ্গাদের তাদের আবাসস্থল রাখাইন প্রদেশে নিরাপদে থাকার মতো পরিবেশ এখনও তৈরি করতে পারেনি মিয়ানমার সরকার।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, “রোহিঙ্গাদের অধিকার ও তাদের ফিরে যাওয়া নিশ্চিতের দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারের। আমি আশা করি, তারা রোহিঙ্গাদের এই সঙ্কটে মুখ ফিরিয়ে নেবে না।”

নাগরিকত্বের মতো একটি মৌলিক মানবিক অধিকার রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“তাদের নিজ ভূমে ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে এটা তখনই হতে পারে যখন তারা নিরাপদ বোধ করে স্বেচ্ছায় যেতে চাইবে এবং তাদের অধিকারকে মর্যাদা দেওয়া হবে।”

ইউএনএইচসিআরের এই বিশেষ দূত বলেন, যারা মানবাধিকার লংঘন করেছে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।