থানা থেকে বেরিয়েই গায়ে আগুন দিল তরুণী

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাজশাহীর এক কলেজ শিক্ষার্থী, যিনি শনিবার নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

জানা যাচ্ছে, শনিবার দুপুরে রাজশাহীর শাহ মখদুম থানায় অভিযোগ জানাতে যান এবং থানা থেকে বের হয়েই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই শিক্ষার্থী।

শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, স্থানীয় একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের এই ছাত্রী গত জানুয়ারি মাসে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। এতদিন তারা রাজশাহীর শহরে ভাড়া বাড়িতে থাকছিলেন।

শনিবার, থানায় গিয়ে ওই তরুনী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, কোন পক্ষই তাদের বিয়ে মেনে নিচ্ছে না। এমন অবস্থায় সংসার টেকাতে পুলিশের সাহায্য চাইছেন তিনি। পুলিশ তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়।

ওসি আরো বলেন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে তরুনীটির কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি মামলা করতে চান কিনা।

তরুনীটি জবাবে বলেন, তিনি আরেকটু ভেবে দেখতে চান এবং সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যান। এর পরপরই ব্যস্ত রাস্তায় নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি।

ঘটনাস্থল শাহ মখদুম থানা থেকে একশো মিটারেরও কম দূরত্বে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে। তবে কেন তিনি এভাবে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন সে ব্যাপারে পুলিশ কিছু জানেনা বলে জানাচ্ছেন মি. পারভেজ।

গাইবান্ধার একটি পরিবারের পালিত কন্যা এই তরুনীটি। তিনি পড়াশোনার জন্য রাজশাহীতে থাকতেন। তার পালক পরিবারের একজন সদস্য জানান, তারা এই তরুনীর বিয়ের খবর এতদিন জানতেন না।

একমাস আগেই তারা জানতে পারেন। তবে তিনি তার দাম্পত্য সমস্যার কোন ব্যাপারে পরিবারের কাউকে কখনো কিছু জানাননি।ফলে কেন তিনি নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন সে ব্যাপারটিও তাদের জানা নেই বলে জানান তরুনীটির পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার রাতেই রাজশাহী থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় তরুনীটিকে। শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে এখন চিকিৎসাধীন তিনি। সেখানকার উপদেষ্টা ডা. সামন্তলাল সেন বলেন, তরুনীটির অবস্থা সংকটাপন্ন। তার শরীরের শতকরা ষাট ভাগ অংশই অগ্নিদগ্ধ হয়েছে।

Leave a Reply

shares