দেশের সব পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশের সব পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে হাইকোর্ট থেকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব পর্নো সাইট স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

আজ এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, আইন সচিব, বিটিআরসি ও পাঁচটি মোবাইল অপারেটর কর্তৃপক্ষকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে পর্নো সাইট বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

দেশে পর্নো ওয়েবসাইট বন্ধে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব সাইট পুরোপুরি ব্লক করা সম্ভব হয়নি। কিছুদিনের জন্য বন্ধ করা গেলেও পরবর্তীতে সাইটগুলো সচল হয়ে যায়।

পর্নো সাইট বন্ধ করতে না পারার পেছনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাবও একটি বড় কারণ বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্নো সাইট কারিগরিভাবে শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে ৯০ ভাগ বন্ধ করা সম্ভব। শতভাগ বন্ধের চেষ্টা করাও উচিত নয়। তাহলে সে চেষ্টা ব্যর্থও হতে পারে।

২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সরকার দেশে ৫৬০টি পর্নো সাইট বন্ধের নির্দেশ দেয়। এই ঘোষণা সে সময় দ্রুত কার্যকর করে সংশ্লিষ্টরা।

সে সময় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক জানান, বিটিআরসির পাঠানো ৫৬০টির মধ্যে ৯০ শতাংশ সাইট বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

তালিকার অবশিষ্ট ১০ শতাংশ সাইট বন্ধ করতে সময় লাগছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু সাইট ক্লাউডে হোস্ট করা। ফলে আইপি ধরে ধরে সেগুলো বন্ধ করতে হচ্ছে। দেখা গেল একটা আইপি ধরে বন্ধ করা হলো, সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি আইপির মাধ্যমে ওই সাইট চালু হয়ে গেল।’

তিনি বলেন, ‘কারিগরি বিভিন্ন কারণে পর্নো সাইট বন্ধে কখনও পুরোপুরি সফল হওয়া যায় না।’