নতুন সাংসদদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।

এতে একাদশ সংসদে নির্বাচিত ব্যক্তিদের শপথ নেওয়া সংবিধান সম্মত ও সংসদ সদস্যেরা যথারীতি তাদের কার্যভার চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল।

দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের শপথ শপথ নেওয়া সংবিধানসম্মত হয়নি দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ ১৪ জানুয়ারি রিটটি করেন। যার ওপর গতকাল শুনানি হয়। শুনানি নিয়ে আদালত আজ আদেশের দিন রেখেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় এ আদেশ দেওয়া হয়।

রিট আবেদনকারী পক্ষের যুক্তি, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচিত ব্যক্তিরা ৯ জানুয়ারি শপথ নেন। একই বছরের ২৯ জানুয়ারি ওই সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধানের ৭২ (৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদের মেয়াদ গণনা হবে সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে পাঁচ বছর, যার মেয়াদ শেষ হয়নি।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে রিটটি করা হয়েছে। ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে সংক্ষুব্ধ হয়ে কেউ রিট করতে পারেন।

কিন্তু আবেদনকারীর কোনো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়নি ও তিনি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিও নন। কেননা রিট আবেদনকারী অতীতে এমপি ছিলেন না এমনকি এই নির্বাচনেও প্রার্থী ছিলেন না। তাই রিট আবেদন চলতে পারে না।

রিট আবেদনের প্রার্থনার বলা হয়, ৩ জানুয়ারি সাংসদদের নেওয়া শপথ কেন অসাংবিধানিক হবে না—এই মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নির্বাচিত সংসদদের কার্যভার পরিচালনা থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা দেওয়ার আরজি ছিল।