নতুন স্বপ্ন নতুন আশায় স্বাগত ২০১৯

জীবনের পথচলা কখনও থেমে থাকে না। আমাদের জীবন হতে আরও একটি বছর চলে গেলো। নতুন স্বপ্ন ও নতুন আশা নিয়ে এল একটি নতুন বছর: ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ। অর্জন-ব্যর্থতা, সুখ-দুঃখ সবকিছু নিয়ে ইতিহাসের গর্ভে চলে গেল ২০১৯।

ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, আরও নতুন নতুন সাফল্যময় অর্জনের প্রয়াসী হওয়ার সংকল্প নিয়ে নতুন বছর শুরু করার এই মুহূর্তে আমরা আমাদের পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ী সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। শুভ নববর্ষ!

২০১৯ সালের এই দিনে বেনাপোল প্রতিদিন এর পাঠক-পাঠিকা, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন- শুভ নববর্ষ। নতুন বছর সকলের জন্য শুভ বার্তা বয়ে আনুক সেই কামনা করছি।

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।/ তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে —কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এ কথার মতই দুঃখ, কষ্ট সবকিছু কাটিয়ে নতুন জীবনের দিকে যাত্রার প্রেরণা নেবে মানুষ। নতুন বছরটি যেন সমাজ জীবন থেকে, প্রতিটি মানুষের মন থেকে সকল গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি থেমে গিয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ যেন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

গত বছরের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসাব খুঁজতে খুঁজতে নতুন বছরকে সামনে রেখে আবর্তিত হবে নতুন নতুন স্বপ্নের। পুরনো বছরের সকল জরা-জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে পশ্চিম আকাশে মিলে গেছে বছরের শেষ সূর্য। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে নতুন বছরকে বরণের আয়োজন।

পুরোনো বছরের দুঃখ ভুলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরুর প্রত্যয়ে শুরু হলো ২০১৯ সাল। নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছে গোটা বিশ্ব, পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মত আমরাও আমাদের অগণিত পাঠকদের জানাই ‌‌‌‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’। নতুন বছরটি আনন্দে, শান্তিতে ভরে উঠুক—এই প্রত্যাশা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা নিষেধাজ্ঞার পরেও বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হচ্ছে বছরের শেষ রাত আর নতুন বছরের প্রথম প্রহর।

প্রতি বছরের মতো এবারও থার্টি ফাস্ট নাইট উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, গুলশান, বনানীসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা চৌকিসহ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছাদে বা উম্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা না গেলেও চার দেয়ালের মাঝে অনুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

নতুন বছর উপলক্ষে আলাদা বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা ইংরেজি নতুন বছর উপলক্ষে দেশবাসী, প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে খ্রিষ্টীয় নববর্ষে বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে বাংলাদেশ অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেন, ‘নববর্ষ সকলের মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। খ্রিষ্টীয় নববর্ষ ২০১৯ সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ ও কল্যাণ বয়ে আনুক।’

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষা এবং জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত করার ক্ষেত্রে ২০১৮ সাল জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল বছর। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গত বছর ছিল বাংলাদেশের জন্য সাফল্যময় বছর।’

২০১৯ সাল বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছুটা আলাদা। কারণ ২০১৮ এর একেবারে শেষ দিকে হয়ে গেল দেশটির একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের বেসরকারি ফল পাওয়া গেছে ৩১ ডিসেম্বর। অর্থাৎ নতুন বছরের প্রথম মাসেই সরকার গঠন করবে নতুন সরকার।

তাই নতুন বছরে দেশের মানুষের প্রত্যাশা সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা যেন চলমান থাকে। নতুন বছরে বাংলাদেশ নতুন মাইলফলক ছোঁবে এটাও প্রত্যাশা।