নালিশ জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন লতিফ সিদ্দিকী

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে নালিশ জানিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন টাঙ্গাইল-৪ আসনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকী।

রোববার সিইসি কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি আর নির্বাচন করছি না। কারণ মাঠ নির্বাচন করার মত সমতল নয়। .. যারা সমর্থক তাদেরকে পুলিশ প্রতিনিয়ত টেলিফোন করে ভয় দেখাচ্ছে। এর পরে ইলেকশন করা যায় নাকি?

তিন দফা দাবিতে টাঙ্গাইলে চারদিনের অনশনে অসুস্থ হলে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আনা হয়েছিল লতিফ সিদ্দিকীকে। হাসপাতালের ৪১২ নম্বর ভিআইপি কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় বলে হাসপাতালের দায়িত্বরত এক নার্স জানিয়েছেন।

রোববার সকালেই তিনি লিখিত অভিযোগ নিয়ে সিইসির সঙ্গে দেখা করেন। নির্বাচনী পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে অভিযোগপত্রে।

এক প্রশ্নে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “চিফ ইলেকশন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছি। কিছুই চাইনি, আমি কিছু চাওয়ার লোক না। আমি বলে আসলাম.. এই পরিচালনায় নির্বাচন হতে পারে না। তাই আমি মাঠ ছেড়ে দাঁড়ালাম। ”

তবে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালেও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় তা কার্যকর হবে না। সেক্ষেত্রে ব্যালটে তার নাম ও প্রতীক থাকবে।

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “এখন তো আর প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। তাই আমি সরে দাঁড়ালাম। আমি নিরীহ মানুষকে আহত, নিহত হবার সুযোগ কেন করে দেব? যারা আহত নিহত হবে, তাদের দায় আমাকে নিতে হবে।”

গত ১৬ ডিসেম্বর লতিফের নির্বাচনী এলাকা কালিহাতীর গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের সরাতৈল এলাকায় তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও চারটি গাড়ি ভাঙচুর হয়। হামলার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমামের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করে তিন দফা দাবিতে সেদিনই জেলা রিটার্নিং কার্যালের সামনে অবস্থান নেন লতিফ।

২৪ ঘণ্টা পরও প্রশাসন সেসব দাবির বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় সোমবার তিনি আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন।