আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৫৯টি আসনে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

রোববার অনুষ্ঠিত এই ভোটের ফলাফলে নৌকার এই অভাবনীয় জয়ের বিপরীতে ভরাডুবি হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে নির্বাচনে আসা বিএনপির।

সবমিলিয়ে মাত্র ৭টি আসনে জয় পেয়েছে ধানের শীষের প্রার্থীরা; তাদের চেয়ে বেশি আসন পেয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম অংশীদার জাতীয় পার্টি ২০টি।

লাঙ্গলে প্রতীকে জয়ী ২০টি আসন নিয়ে দৃশ্যত আবারও সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে এইচ এম এরশাদের দল।

তা হলে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি এবার ভোটে অংশ নিলেও সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনেও ফিরতে পারছে না।

তবে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দেওয়া বিএনপি যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের শপথ না নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে দলটির নেতাদের কথায়। সেক্ষেত্রে ওই আসনগুলোতে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা থেকেই যায়।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃনির্বাচনের দাবি তুলেছে।

এ নির্বাচন জাতিকে ভবিষ্যতে ‘সমস্যায় ফেলবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু এবং বিরোধী জোটের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে দিনভর ভোটগ্রহণ চলে।

ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর মৃত্যুতে গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোট আগেই স্থগিত হয়েছিল। তিনটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ফল স্থগিত করা হয়েছে রোববার। ওই কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ভোট হওয়ার পর ফল ঘোষণা হবে বলে ইসি জানিয়েছে।

ভোটগ্রহণের মাঝপথেই ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে অংশ নেওয়া জামায়াতে ইসলামী বিবৃতি দিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়; যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে এতদিন বলা হচ্ছিল যে জামায়াত নির্বাচনে নেই।

দুপুরের পর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বিএনপি ও তাদের জোটের কয়েকজন প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বর্জনের কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভোটের প্রচার যেমন তারা চালাতে পারেননি, তেমনি তাদের প্রার্থীদের এজেন্টদেরও কোনো কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

এবার ঘোষিত ২৯৮টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছে ২৫৯টি আসন, আর মহাজোটগতভাবে তাদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৮টি।

১৪ দলীয় জোটের দলগুলোর মধ্যে জাসদ ২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, বিকল্প ধারা ২টি, তরীকত ফেডারেশন ১টি আসনে জিতেছে। এর বাইরে আওয়ামী লীগের মিত্র দল জাতীয় পার্টি (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীকে একটি আসনে জিতেছে।  

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে বিএনপি ৫টি আসনে জিতেছে, গণফোরাম দুটি আসতে জিতেছে। তিনটি আসনে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা; তাদের দুজন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, আরেকজন খালেদা জিয়ার আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছিলেন।

ভোটের হার কত, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইসি; তবে ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এটা ৮০ শতাংশের কাছাকাছি হবে।

বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, “আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানাই, তারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। এই নির্বাচন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যেন গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।”