বেনাপোল-ঢাকা আন্তঃনগর রেল চালুর দাবি সংসদে

জাতীয় সংসদে বেনাপোল-ঢাকা আন্তঃনগর রেল চালুর দাবি জানিয়েছেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে কাজী নাবিল আহমেদ এ দাবি জানান।

এছাড়াও ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা যশোরকে বিভাগ ও সিটি করপোরেশন করার দাবি জানান তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে নির্যাতনে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছেন। দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে শান্তি ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। 

এরপর সরকার দলীয় এই এমপি তার বক্তব্যে নির্বাচনি এলাকার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। সেক্টরভিত্তিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে কাজী নাবিল বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম সফল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশকে ইমার্জিং টাইগার হিসেবে আখ্যায়িত করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি উন্নয়নশীল দেশের জন্য রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

এ সময় তিনি ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা যশোরকে বিভাগ ও সিটি করপোরেশন করার দাবি পুর্নব্যক্ত করেন। তিনি খুলনা-কলকাতা চলমান ট্রেনটির যশোরে স্টপেজ এবং বেনাপোল-ঢাকা আন্তঃনগর রেল চালুরও দাবি জানান।

যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার দাবি তুলে তিনি বলেন, এই বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হলে খুলনা-যশোরসহ এই অঞ্চলের মানুষের বিদেশ যাওয়ার জন্য ঢাকা আসতে হবে না। প্রবাসে চাকরি ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন কাজে বিদেশ যেতে এই বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন।

তিনি বলেন, যশোরে গত ১০ বছরে যে উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে তা অতীতে কখনও হয়নি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ভৈরব নদীখনন ও হাইওয়ে উন্নয়নের কাজ চলছে। যশোর সদর ও শার্শায় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করা হচ্ছে।

এসময় তিনি যশোরে পাঁচতারা মানের মোটেল তৈরি, কৃষি কলেজ স্থাপন ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট ও ডায়ালাইসিস সেন্টার প্রতিষ্ঠারও দাবি জানান।

পৌরসভার উন্নয়নের কথা তুলে তিনি বলেন, যশোরের দড়াটানা, মনিহারসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র যানজট তৈরি হয়। যশোর পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলমান রয়েছে। এইগুলো আরও বেগবান করতে আরও বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে।

খেলাধুলায় বাংলাদেশের নানা অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খেলোয়াড় গড়ার পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। খেলাধুলার মান উন্নয়ন ও উৎকর্ষতা বাড়ানোর জন্য খেলোয়াড়সহ সংশ্লিষ্টদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া দরকার।