বেনাপোল রেলস্টেশনে নারী পকেটমার আটকের পরে মুচলেকায় ছাড়

যশোরের বেনাপোল কমিউটার ট্রেনে যাত্রীর পকেট থেকে মানিব্যাগ উঠিয়ে নেওয়ার সময়ে নাসিমা বেগম (৫০) নামে এক নারী পকেট মারা ধরা পড়ে জনতার হাতে।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বেনাপোল রেলস্টেশনে। পরে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এসময়ে স্টেশনে থাকা রেল জিআরপি পুলিশের সৈনিক বক্কার ওই নারীকে হেফাজতে নেয়। কিছু সময় পরে রেলের নিরাপত্তা কর্মীরা জিআরপি পুলিশের সৈনিক বক্কারের কাছ থেকে ওই নারী পকেটমারকে ছিনিয়ে নেয়।

পরে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা বড় ধরণের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় নারী পকেটমারকে । এ ঘটনায় পুরা স্টেশন জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কথিত আছে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় রেলওয়েতে দীর্ঘ দিন ধরে পকেটমাররা নিবিঘ্নে যাত্রীদের পকেট কেটে চলেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বেনাপোল রেলস্টেশন প্লাটফর্মে বেনাপোল কমিউটার ট্রেনটি পৌচ্ছায়। এসময়ে যাত্রীরা তাড়াহুড়া করে ট্রেনে উঠার চেষ্টা করার সময়ে নারী পকেটমার তাসলিমা বেগম মহবত হোসেন (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্রের মানিব্যাগ তুলে নেয়। পকেট থেকে মানিব্যাগ উঠিয়ে নেওয়ার সময়ে মহবতের পাশে থাকা বন্ধু নাজমুল নারী পকেটমারকে হাতে নাতে ধরে ফেলে।

লোকজনের হৈ-হুল্লোড় দেখে সেখানে পৌছে যায় প্লার্টফর্মে থাকা জিআরপি পুলিশের সৈনিক বক্কার। নারী পকেটমার তাসলিমাকে গণপিটুনী থেকে রক্ষা করতে তিনি নিজের হেফাজতে নেন।

কিছু সময় পরে রেলওয়ের নিরাপত্তার সদস্যরা সেখানে পৌছে জিআরপি পুলিশ সদস্য বক্কারের কাছে পকেটমারকে ছিনিয়ে নিয়ে নিরাপত্তা ব্যারাকে নিয়ে যায়।

বেনাপোল রেলওয়ে জিআরপি ফাঁড়ির ইনচার্জ কামালউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সৈনিক ওই নারী পকেটমারকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। কিন্তু অতি উৎসাহিত হয়ে রেলের নিরাপত্তাকর্মীরা আমার সদস্যদের কাছ থেকে ওই নারী পকেটমারকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আমি আমার উর্ধোতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। এর পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তা বদর আমার কাছে আসামী দিতে এসেছিল কিন্তু আমার কর্মকর্তা আসামীকে জিম্মায় নিতে নিষেধ করায় আমি তাকে গ্রহণ করিনি।

বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তা বদরউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জনতার হাতে পকেটমার ধরা পড়ে নিহত হওয়ার আশষ্কায় আমরা তাকে হেফাজতে নেই। তবে ভিকটিম মহবত হোসেন ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে না চাওয়ায় তাকে এক নারীর জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

shares