চৌগাছার বেড়গোবিন্দপুর বাওড় ইজারা নিয়ে উত্তেজনা

স্টাফ রিপোর্টার :

বাওড় মৎস প্রকল্পের অধীন যশোরের চৌগাছার বেড়গোবিন্দপুর বাওড় ইজারা দেয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রোববার রাতে বিক্ষুব্ধ মৎসজীবিদের থেকে উপজেলা চেয়ারম্যানকে ফাকা গুলি করে উদ্ধার করা হয়েছে।

চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন ফাকাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন সেকেন্ড অফিসার (এসআই) আকিকুল ইসলামকে ঘটনার তদন্তে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বাওড়টি ইজারাকে কেন্দ্র করে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ি দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশংকা করছে এলাকাবাসি।

তারা জানান এর আগেও বাওড় কেন্দ্র করে একাধিকবার ম্যানেজার ইমদাদুল হককে লাঞ্চিত হতে হয়েছে।

মৎসজীবিদের সূত্রে জানা গেছে বাওড় মৎস প্রকল্পের আওতাধীন বাওড়টির চলতি অর্থবছরে যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তার মূল্যমান ৪০ লক্ষ টাকা।

কিন্তু দুর্নীতিবাজ বাওড় ম্যানেজার ইমদাদুল হক বাওড়টিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের নিকট ৭০ লক্ষ টাকায় ইজারা দেয়ার বন্দোবস্ত চুড়ান্ত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার বাওড়টি ইজারা দেয়ার বিরুদ্ধে মৎজীবিরা যশোরের জেলা প্রশাসক দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এঘটনার পর রোববার চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান উপজেলার ধুলিয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা দেখে ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চৌগাছা-ধুলিয়ানী সড়কের ফতেপুর বাজারের পাশে মালোপাড়ায় দাড়িয়ে যে সকল মৎসজীবি ডিসির নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে তাদের ডাকতে বলেন।

স্থানীয়রা তাদের ডেকে নিয়ে আসলে তিনি তাদের বলেন কিছুদিন পরই যারা ইজারা নিচ্ছে তারা ৬০ লক্ষ টাকার মাছ ছাড়বে। তোমারা কেউ বাওড়ে মাছ ধরতে যাবা না। তার এ কথার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে মৎসজীবিরা।

শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান মৎসজীবি মনোরঞ্জনের গালে চড় মারলে মৎসজীবিরা উত্তেজিত হয়ে তাকে ঘিরে ধরেন।

উত্তেজিত মৎজীবিদের কাছ থেকে উদ্ধার করতে চেয়ারম্যানের গানম্যান সিংহঝুলি ইউপির মাঝালি ওয়ার্ডের সদস্য খন্দকার বাবুল এসএম হাবিবের লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে ফাঁকাগুলি করে মৎসজীবিদের সরিয়ে দিয়ে তাকে উদ্ধার করে চৌগাছায় নেন।

তবে খন্দকার বাবুল রোববার রাতে ফাকাগুলি করার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন ফাকাগুলি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক আকিকুল ইসলামকে ঘটনাটি তদন্ত করতে দেয়া হয়েছে।

কি ঘটেছে তদন্তের পর বলা যাবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আকিকুল ইসলামের সেল ফোনে বারবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।