ভোটের আগে এবারও এরশাদ নাটক

মহাজোটের সিদ্ধান্তই ‘চূড়ান্ত’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উল্টে গেলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।

বিকালে বারিধারার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্য ‘ভুলভাবে’ গণমাধ্যমে এসেছে দাবি করে রাতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, মহাজোটের বাইরেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ভোটের লড়াইয়ে থাকবেন।

নাটকীয় অসুস্থতা নিয়ে সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরার পরদিন বৃহস্পতিবারই এই নাটকীয়তার জন্ম দেন এরশাদ।

গণআন্দোলনে ক্ষমতা হারানো সামরিক শাসক বাংলাদেশের রাজনীতিতে বরাবরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য আলোচিত-সমালোচিত।

বিষয়টি স্বীকার করে নিজেই একবার বলেছিলেন,“ তোমরা সবসময় বলো, আমি কথা ঠিক রাখি না। সকালে এক কথা বলি, বিকেলে আরেক কথা বলি।

“এটা কিছুটা হলেও সত্য। কিন্তু আমার অবস্থা তোমরা বুঝতে চাও না। আমার দুঃখের কথা তোমরা শুনতে চাও না।”

২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন সংসদ নির্বাচনের আগে বর্জনের ঘোষণা দিয়ে নাটকীয়ভাবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ।

সেবার হাসপাতালে থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে যান এরশাদ, পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতও হন। তার দল সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসার পাশাপাশি সরকারেও যোগ দেয়, স্ত্রী রওশন এরশাদ হন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা।

এরপর গত ৫ বছরে ‘বঞ্চনা’ ও আওয়ামী লীগের কাছে ‘প্রাপ্য সম্মান’ না পাওয়ার অনুযোগ করে এলেও বিএনপি ভোটে এলে আওয়ামী লীগের মহাজোটে থাকার সিদ্ধান্তই জানিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু মহাজোট থেকে পাওয়া ২৬টি আসনে সন্তুষ্ট না হওয়া জাতীয় পার্টি শতাধিক আসনে লাঙ্গলের প্রার্থী রেখে দেয়, যা নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে দেখা দেয় উদ্বেগ।