ভোট বর্জন অনেক প্রার্থীর

সারাদেশে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া ভোট গ্রহণ চলছে। তবে ইতোমধ্যে ভোট বর্জনের হিড়িক উঠেছে। ভোট বর্জন শুরু করেছেন জামায়াত-বিএনপির প্রার্থীরা।

কুমিল্লা-১১ ও খুলনা-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ভোট বর্জন করেন। তারা দুজনই জামায়াত নেতা। এছাড়া পাবনা-৫ আসনে আরেক জামায়াত নেতা ও ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীর ভোট বর্জন করেছেন। এছাড়া খুলনা-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সুনীল শুভ রায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-১ আসনে নির্বাচনে বর্জন করেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সালমা ইসলাম।

ঢাকা-১ সালমা ইসলাম

ঢাকা-১ আসনে নির্বাচনে বর্জন করেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সালমা ইসলাম। রোববার সাড়ে ১১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন তিনি। সালমা ইসলাম মোটর গাড়ি মার্কায় নির্বাচন করছেন। ওই আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় সালমা ইসলামকে সর্মথন দেয় দলটি। ওই আসনে নৌকার প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ি সালমান এফ রহমান।

সালমা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তাদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য আমি সরে দাঁড়ালাম। ওই আসনে ফের নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান সালমা ইসলাম।

ফরিদপুর-২ শামা ওবায়েদ

এর আগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–শালথা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

কুমিল্লা-১১ ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের নির্বাচন বর্জন করেছেন। রবিবার (৩০ ডিসেম্ব) সকাল ১১টায় তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ভোটার, নেতাকর্মী এবং প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রেলমন্ত্রী মজিবুল হক।

খুলনা-৫ গোলাম পরওয়ার

ভোট বর্জন করেছেন খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি কেন্দ্রীয় জামায়াতের নায়েবে আমির। রোববার সকাল ১০টায় তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি এই জামায়াত নেতা অভিযোগ করে বলেন, ভোটগ্রহণ শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। এমনকি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশও ভোটারদের মুখ চিনে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন। এ অবস্থায় নির্বাচন করা অসম্ভব।

খুলনা-৫ সুনীল শুভ রায়

খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর পর এবার খুলনা-১ আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী সুনীল শুভ রায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় বলেন, এ রকম কলঙ্কিত ভোট আমি কোনো দিন দেখিনি। সকাল থেকেই আমার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। কাউকে গাছের সঙ্গে বেঁধেও রাখা হয়েছে। যারা ভোট দিতে যাচ্ছেন তাদেরকে ব্যালট পেপার টেবিলের ওপর রেখে নৌকায় সিল দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এখানে কোনো সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে না। তাই আমি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি।

পাবনা-৫ ইকবাল হোসেন

এদিকে পাবনা-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেন ভোট বর্জন করেছেন। প্রার্থী নিজেই সাংবাদিকদের ফোন করে এই তথ্য জানান। ভোট জালিয়াতি, তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনি ভোট বর্জন করেছেন বলে জানান।

খুলনা-৬ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

খুলনা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও খুলনা মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ভোট বর্জন করেছেন। আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। রোববার দুপুর ১২ টায় প্রার্থীর নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট ও মহানগর জামায়াতের অ্যাসিট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম নিশ্চিত করেছেন।