বেনাপোলে ‘মানবতার দেয়াল’

দেয়ালের হ্যাংগারে ঝুলানো প্যান্ট, শার্ট, গেঞ্জি, শীতের কাপড় সহ বিভিন্ন টাইপের কাপড়। দেয়ালে লেখা- ‘আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান, প্রয়োজনীয় জিনিস এখান থেকে নিয়া যান’।

কেউ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নিজের অতিরিক্ত দুয়েকটি কাপড় এখানে রেখে যান। আবার অন্য কেউ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রয়োজন মনে হলে এখান থেকে একটি-দুটি কাপড় নিয়ে যান। এমন অভিনব উদ্যোগের নাম ‘মানবতার দেয়াল’।

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় “জেগেছে মানুষ বাড়ছে মানবতা, গ্রাম হচ্ছে শহর, এগোচ্ছে দেশ তারুণ্যের বাংলাদেশ” এই স্লোগানে মানবতার এ দেয়াল গড়ে তুলেছেন ‘তারুণ্য ১৮’ নামের স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সহযোগিতায় জিওসি লিমিটেড বেনাপোল।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ নারী-পুরুষেরা কষ্ট পান। তাঁদের কষ্ট লাঘবে এই ক্ষুদ্র চেষ্টা। আশার কথা হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। সারা দেশের পাড়া–মহল্লায় যদি তরুণেরা একটি করে ‘মানবতার দেয়াল’ গড়ে তোলেন, তাহলে আসন্ন শীতে গরিব লোকজনকে ততটা কষ্টে পড়তে হবে না।

বেনাপোল বাজার-বন্দর এলাকা ও সীমান্ত এলাকায় ৩টি স্পটে এর কার্যক্রম চলছে। মানবতার দেয়াল-দেশ ব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা।

বেনাপোল মানবতার দেয়াল তারুণ্য ১৮ কমিটি সাধারণ সম্পাদক রোমিও হাসান হিরো বলেন, তিনটি স্পটে মানবতার দেয়াল থেকে অসহায় মানুষ পাচ্ছে তাদের প্রয়োজীয় জিনিষ। এ উদ্যোগের আলো হয়ে ছড়িয়ে পড়ুক দেশব্যাপি। জয় হোক তারুণ্যের।

এদিকে বেনাপোল সীমান্তে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে সাড়া ফেলেছে মানবতার দেয়াল। তরুণদের এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সব শ্রেণি পেশার মানুষ। প্রচণ্ড শৈতপ্রবাহে যখন কাপছে দেশ, দুর্ভোগে এলাকার ছিন্নমূল মানুষ, তখনই যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশেই জনসম্মুখে উন্মুক্ত স্থানে দেয়ালে লেখা হয়েছে মানবতার দেয়াল।

বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, মানবতার দেয়াল মানুষের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। এমন উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।