মানব পাচার রোধে জনসচেতনার বিকল্প নেই-দেবাশীষ মিশ্র জয়

চৌগাছা(যশোর) প্রতিনিধিঃ
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়া বাংলাদেশিরা নির্যাতন-নিপীড়নের যে ভয়াবহ বর্ণনা দেন, সেগুলো মেনে নেওয়া কঠিন। শুধু চুনোপুঁটিদের ধরে মানব পাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়, ধরতে হবে রাঘববোয়ালদের, যারা দেশে-বিদেশে বসে আছে।
ইতিপূবে পাচারের শিকার ব্যক্তিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়য়েছেন।

উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি ছাড়া অন্যটি হতে পারে না। অনেক সময় তথ্য না জানার কারণে মানুষ পাচারের শিকার হয়। অনেকে ভাষা জানে না। যাঁরা বিদেশে যাচ্ছেন, তাঁদের যাওয়ার আগেই যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। বিমানবন্দরে দায়িত্বরত পুলিশকে আরও সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি পাচারের শিকার কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পুলিশ প্রতিবেদন দেওয়ার কাজটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারলে মানব পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

ট্রাইব্যুনাল গঠন এখন শুধু দাবির পর্যায়ে নেই, অনেকটা বাধ্যবাধকতার পর্যায়ে চলে গেছে। পাচারের মতো অপরাধ দমনে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এ ক্ষেত্রে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে বলে আমরা জানি।
যেকোনো উপায়ে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। বিপদে না পড়লে অনেক সময় মানুষ তথ্য জানায় না। তবে রোহিঙ্গাদের পাচার বন্ধসহ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার দিকে সরকার নজর দিচ্ছে।

মানব পাচার শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের জন্যই সমস্যা। সবাই মিলে কাজ করলে রাতারাতি না হলেও যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এটি কোনো দাবির বিষয় নয়।

বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। ২০১২ সালে মানব পাচার আইন হওয়ার পর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ৫ হাজার ৭১৬টি মামলা হলেও নিষ্পত্তির ঘটনা খুবই নগণ্য।
নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে ব্রাকের পাশাপাশি আমাও আপনাদের সাথে সহযোগীতা করে ইউনিয়ন পর্যায়ে উঠান বৈঠাকের মাধ্যমে আমরা আমাদের চৌগাছা উপজেলার প্রতিটি জনগণ কে সচেতন করতে পারলে এই মানব পাচার প্রতিরোধ করতে পারবো বলে আশাবাদী।

আজ দপুর ১টায় ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির আয়োজিত নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে এক সাক্ষাৎকারে চৌগাছা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয় এসব কথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ফারহানা আলম,রানজান খয়রি,কাজী ফারিয়া ইসলাম ব্রাক জেমস পি.গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথ। সার্বিক সহযোগীতা করেন ডিএম(সিইপি) আশরাফুল ইসলাম ও এফও (সিইপি)জহুরা খাতুন।

Leave a Reply

shares