শিশুরা অনলাইনে বিপদের মুখে আছে: ইউনিসেফ

বাংলাদেশের শিশুরা অনলাইনে উৎপীড়ন, হয়রানি এবং আরও নানা ধরণের বিপদের হুমকির মধ্যে আছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ।

মঙ্গলবার ঢাকায় প্রকাশ করা এক রিপোর্টে ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশুদের অনলাইনের ব্যবহার সম্পর্কে একটি চিত্র তুলে ধরে। খবর বিবিসি..

ইউনিসেফ বিশ্বজুড়ে ১৬০টি দেশে একটি জরিপ চালিয়েছিল শিশুদের অনলাইন ব্যবহার সম্পর্কে একটা ধারণা পেতে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও ১ হাজার ২৮১ জন স্কুল বয়সী শিশুর ওপর জরিপ চালানো হয়।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেগবেদারের ভাষায়, “ইন্টারনেট এখন শিশুদের জন্য এক দয়া-মায়াহীন জগতে পরিণত হয়েছে।বাংলাদেশে ৩২ শতাংশ শিশু অনলাইনে ঝুঁকির মুখে

মঙ্গলবার ঢাকায় নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস উপলক্ষে ইউনিসেফের এই রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

রিপোর্টে বলা হচ্ছে:

  • বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১০ হতে ১৭ বছর বয়সী ৩২ শতাংশ শিশু অনলাইন সহিংসতা, অনলাইনে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ডিজিটাল উৎপীড়নের শিকার হওয়ার মতো বিপদের মুখে আছে।
  • ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ১০ শতাংশ শিশু ধর্মীয় উস্কানিমূলক বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করেছে।
  • ২৫ শতাংশ শিশু ১১ বছর বয়সের আগেই ডিজিটাল জগতে প্রবেশ করতে শুরু করে।
  • শিশুদের একটি বড় অংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের বেডরুমে । যার ফলে কোন নজরদারি ছাড়াই তারা ইন্টারনেটে বিচরণ করতে পারে
  • অনলাইনে শিশুরা বেশিরভাগ সময় কাটায় চ্যাটিং এবং ভিডিও দেখার কাজে
  • ৭০ শতাংশ ছেলে ও ৪৪ শতাংশ মেয়ে অনলাইনে অপরিচিত মানুষের বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করে। এদের একটি অংশ আবার সেই ‘অনলাইন বন্ধুদের’ সঙ্গে সরাসরি দেখার কথাও স্বীকার করেছে।
  • জরিপে পাওয়া তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিসেফ বলছে, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার ব্যাপক বেড়েছে। ২০০০ সালের সঙ্গে তুলনা করছে প্রায় ৮শ গুন। অন্যদিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের গড় বয়স কমছে।

বাংলাদেশে শিশুদের অনলাইনে সুরক্ষা দেয়ার মতো কতটা আছে? এ প্রশ্নের উত্তরে ইউনিসেফের কম্যুনিকেশন ম্যানেজার শাকিল ফয়জুল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশে অনলাইন সম্পর্কিত যত আইন আছে, যেমন ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, আইসিটি আইন বা পর্ণোগ্রাফি আইন —এগুলোতে মূলত জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এই আইনগুলোর কোনটিতেই অনলাইনে শিশুকে সুরক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে আলাদাভাবে কিছু বলা নেই।”

অনলাইনে শিশুদের যাতে নিরাপদ রাখা যায় সেজন্যে যুগোপযোগী আইন এবং নীতিমালা প্রণয়নে ইউনিসেফ বাংলাদেশে সবার সঙ্গে মিলে কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি।