সরকার বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে অটোমেশন প্রকল্প নেবে

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে মাঠে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে বন্ডের আওতায় আমদানি করা পণ্য পাচার বা খোলাবাজারে বিক্রি বন্ধে বন্ড অটোমেশন প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার।

এজন্য সোমবার (১৮ মার্চ) স্টেকহোল্ডার ও বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সঙ্গে বৈঠক করবে এনবিআর।

এদিকে অসাধু চক্রের অপতৎপরতা মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় শিল্প কারখানার মালিকরা বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। খবর-বাংলানিউজ২৪..

এনবিআরের গ্রেড-১ এর মেম্বার সুলতান মো. ইকবাল  বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। যারা বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এ সুবিধাকে আধুনিকায়ন বা অটোমেশন করা হবে। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি।

এ বিষয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। এজন্য সাইনেসিস নামে একটি আইটি ফার্মকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফার্মটি বিশ্বের অন্যান্য দেশ কিভাবে বন্ড সুবিধা দেয় সে বিষয়ে গবেষণা করে মতামত দেবে। এছাড়া সোমবার (১৮ মার্চ) স্টেকহোল্ডার ও ২১ মার্চ ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, বন্ড খাতে অটোমেশন বাস্তবায়ন করতে আমাদের অন্তত ২ বছর সময় লাগবে। আর বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের সেবা খাতে নানা অভিযোগ আর থাকবে না। পাশাপাশি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যাবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, রফতানিমুখী শিল্প কারখানাগুলো পুনঃরফতানির শর্তে শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ পায়। এসব কাঁচামাল বা পণ্য সরকার-নির্ধারিত গুদামে (বন্ডেড ওয়্যারহাউস) রক্ষিত থাকে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দেশে শুল্কমুক্ত পণ্য এনে অবৈধভাবে অপসারণের মাধ্যমে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। বন্ড সুবিধায় আনা কাপড়, প্লাস্টিক দ্রব্য, কাগজপণ্য, ডুপ্লেক্স বোর্ড, আর্ট কার্ড, কার্ড বোর্ড, বৈদ্যুতিক পাখা, পেডিং (ব্লেজার বা জ্যাকেট তৈরির কাঁচামাল) ইত্যাদি দ্রব্য ও পণ্য ওয়্যারহাউসে যাওয়ার আগেই খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।