সেবা নয়, রোগীদের পেটালেন ডাক্তার-স্টাফরা

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:

চৌগাছায় সেবা নিতে এসে ডাক্তার-ষ্টাফদের হামলায় আহত হয়েছেন বাবা-ছেলে। পরে চৌগাছা থানা পুলিশের সহযোগিতায় বাবা-ছেলে দুজনকেই ওই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- উপজেলার স্বরুপদাহ গ্রামের মৃত সাত্তার বিশ্বাসের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৫০) এবং আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে গোলাম রসুল (১৮)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতরা জানান, বুধবার সকালে আব্দুর রাজ্জাক অসুস্থ্য ছেলে গোলাম রসুলকে নিয়ে চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। বহিঃবিভাগ হতে টিকিট সগ্রহের সময় তাদেরকে যে রুমের ডাক্তারের কাছে পাঠানো হয়, রোগীরা সেই ডাক্তারের কাছে না দেখিয়ে অন্য ডাক্তারের কাছে যাবেন বলেই টিকিট কাউন্টারে জানান। টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বপালনরত হাসপাতালের কুক টিটো অপারগতা প্রকাশ করে এবং রোগীদেরকে গালমন্দ করে। পরে রোগীরা (বাপ-ছেলে) প্রতিবাদ করলে টিটো ছেলের সন্মুখে বাপের মুখে চড় মারে। এতে অসুস্থ্য ছেলে গোলাম রসুল ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে।

তারা জানান, তখন টিটো নিজ চেয়ার থেকে উঠে বাপ-ছেলেকে পিটাতে থাকে। মারতে মারতে তাদেরকে হাসপাতালের ৪১ নং রুমে মেডিক্যাল অফিসার উত্তম কুমারের রুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে পিটাতে থাকে। টিটোর সাথে মারপিটের ঘটনায় হাসপাতালের অন্যান্য ষ্টাফ এমনকি ডাক্তার উত্তম কুমার ও ডাক্তার তৌহিদও অংশগ্রহণ করেন।

ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদুল সাংবাদিকদের কাছে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করে বলেন, তাড়াতাড়ি আসেন, হাসপাতালের ডাক্তার-ষ্টাফরা মিলে রোগীকে মারপিট করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের স্টাফদের ব্যবহার মোটেও ভালো না। আজকে বিনা কারনে ডাক্তার-ষ্টাফ সকলে মিলেই বাপ-ছেলেকে পিটালো। এই কি এই মডেল হাসপাতালের সেবার মান??

জানতে চাইলে অভিযুক্ত কুক টিটো অস্বীকার করে বলেন, রোগীরাই আমাকে মেরেছে। আপনি বাপ-ছেলেকে কোন রুমে আটকিয়ে ছিলেন প্রশ্নের উত্তরে মুখ ফসকে টিটো বলেন উত্তম স্যারের রুমে। পুনরায় রুমের নাম্বার জিজ্ঞাসা করতেই বলেন ৪২ নাম্বার রুমে। তাহলে আপনারা তাকে সকলেই মেরেছেন? এ প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি টিটো।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন নাহার দায়িত্বে গাফিলতিত্বে হাসপাতালের ডাক্তার কর্মচারীরা সাধারণ রোগীদের সাথে ঔদ্ধত্ব্যপূর্ণ আচারণ করে থাকে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকেও জানালেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচ এন্ড এফপিও ডা.লুৎফুন নাহার বলেন, আমি অফিসে ছিলাম। নীচে ঝামেলা হচ্ছে শুনে গিয়ে দেখি সবকিছু থেমে গেছে।

আপনার ডাক্তার-ষ্টাফরা রোগীদেরকে মেরেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাতাহাতি হয়েছে শুনেছি। তাদেরকে রুমে আটকিয়ে মারা হয়েছে কিনা তা জানিনা।

অভিযুক্ত ডাক্তার উত্তম কুমার বলেন, আমি ঝামেলা দেখে রুমের আশেপাশে ছিলাম। তবে আমি মারিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। সত্যই যদি সেবা নিতে আসা রোগীদেরকে আহত করা হয় তাহলে ন্যাক্কারজনক ঘটনাই ঘটেছে।

ঘটানার পরেই হাসপাতালে উপস্থিত হন চৌগাছা উপজেলার চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড.মোস্তানিছুর রহমান। ডাক্তার লুৎফুন নাহারের রুমে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন,পক্ষপাতিত্ব না করে ঘটনার সত্যতা তুলে ধরুন।

চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এমন ঘটনার সংবাদে থানার অফিসারদেরকে হাসপাতালে পাঠিয়ে ছিলাম। অফিসাররা আহতদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করে রেখে এসেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

shares