স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় হিরো আলম গ্রেপ্তার

স্ত্রী সাদিয়াকে নির্যাতনের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল আলোচিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।

নারী নির্যাতন দমন আইনে করা এক মামলায় তাঁকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর আগে হিরো আলমের শ্বশুর সাইফুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।

বুধবার রাত আটটার দিকে পুলিশ দু’পক্ষকে থানায় ডেকে এনে সমঝোতার কথা বলে। সেখানে হিরো আলম, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, মা আশরাফুন বেগম এবং বোন-ভগ্নিপতি থানায় আসে। অপরদিকে হিরো আলমের শ্বশুর সাইফুল ইসলাম তার আত্মীয়-স্বজন নিয়ে থানায় আসে।

দু’পক্ষ থানায় থাকা অবস্থায় হিরো আলমের শ্বশুরের করা অভিযোগটি থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে হিরো আলম তার স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে হিরো আলম অভিযোগ করে জানান, তার স্ত্রীর সঙ্গে একই গ্রামের রাব্বী নামের এক যুবকের পরকীয়ার সম্পর্ক আছে। এনিয়ে হিরো আলম চড়-থাপ্পড় মেরে তাকে শাসন করেছেন। এর জের ধরে মঙ্গলবার রাতে তার শ্বশুর এবং অন্যান্য লোকজন তাকে মারপিট করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) আব্দুর রহিম বলেন, শ্বশুরের দায়ের করা মামলায় হিরো আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শ্বশুরের বিরুদ্ধে হিরো আলমের করা অভিযোগটি প্রাথমিক অনুসন্ধানে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।

বগুড়ার প্রত্যন্ত এরুলিয়া গ্রামে একসময় সিডি বিক্রি করতেন হিরো আলম। সিডি যখন চলছিল না তখনই মাথায় আসে কেবল সংযোগ বা ডিশ ব্যবসার। এই ব্যবসার সুবাদে মিউজিক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে প্রকাশ শুরু করেন তিনি।

অনলাইনে প্রায় ৫০০ মিউজিক ভিডিও ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমের আলোচনায় আসেন হিরো আলম। ভিডিওগুলোর নির্দেশনা ও অভিনয় করেন তিনি নিজেই। এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তাঁর ভিডিও নিয়ে কৌতুক শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে করা হয় বিভিন্ন ট্রল।

হিরো আলম এরই মধ্যে ‘মার ছক্কা’ নামে একটি চলচ্চিত্রে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বলিউড পরিচালক প্রভাত কুমারের ‘বিজু দ্য হিরো’ নামে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন তিনি। ২০১৬ সালে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এসব পরিচিত কাজে লাগিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে হেরে যান তিনি।